বিপিএলের সর্বশেষ আসরে অব্যবস্থাপনা, ক্রিকেটারদের পেমেন্ট, ফিক্সিংসহ আরও নানা ধরনের অনিয়মের খবর এসেছে গণমাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেছে বিসিবিও। হয়েছে কমিটির পর কমিটি। এবার আরও এক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিলেন বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
এনসিএল টি-টোয়েন্টির গ্র্যান্ড লঞ্চিং হয়েছে রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে। সেখানে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিপিএলে অনিয়মের কারণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বুলবুল। তবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি। জানিয়েছেন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা।
গণমাধ্যমকে বুলবুল জানিয়েছেন, ‘আমরা একটি তদন্ত রিপোর্ট পেয়েছি। আমাদের যে তদন্তকারী দল ছিল, একজন বিচারপতি ছিলেন, একজন ব্যারিস্টার ও একজন সাবেক ক্রিকেটার, তারা রিপোর্টের সারাংশ জমা দিয়েছেন আমাদের কাছে এবং সারাংশে বেশ কিছু জিনিস আছে, যেগুলো আমাদেরকে অনেক চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। এটা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য আমরা একটা কমিটি করেছি, কারণ আমরা কেউ বিশেষজ্ঞ নই। খুব শিগগিরই আপনারা জানতে পারবেন।’
বুলবুল আরও বলেন, ‘এখানে সন্দেহ বলে কিছু নেই। একেবারে জমাট (কংক্রিট) প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত কাউকে নিয়ে কিছু বলা যাবে না। এটার আমি বিশেষজ্ঞও নই। এজন্যই আমরা কমিটি করে দিয়েছি। তারা খুব শিগগিরই একটি রিপোর্ট দেবে, যে রিপোর্টের প্রেক্ষিতে আমরা অ্যাকশনে যেতে পারব। প্রমাণ বলতে বোঝাচ্ছি… আমাদের কাছে প্রমাণ কিছু আছে, রিপোর্ট আছে, অনুসন্ধানের ফল আছে কিছু। কিন্তু অ্যাকশন নেওয়ার জন্য যে প্রক্রিয়ার দরকার, সেই প্রক্রিয়ায় আমরা আসতে যাচ্ছি। এখানে একটাই আইনি প্রক্রিয়া সম্পৃক্ত যে, কোনো ভুল করা যাবে না।’
অভিযুক্তদের কারও নাম নেননি বিসিবি প্রধান, ‘এটা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ওই ক্রিকেটারের জন্য বা ক্রিকেটারদের জন্য কিংবা কর্মকর্তাও হতে পারে, যে কেউ হতে পারে, আবারও বলছি, এখানে আমরা কোনো ভুল করতে চাই না। আমরা একদম যথাযথ পদক্ষেপ নিতে চাই। তবে আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, আপনাদেরও দায়িত্ব আছে খেলাটাকে সুরক্ষা দেওয়ার। যতদিন না আমরা ন্যায্য ক্রিকেট উপহার দেব, ততদিন ভালো ক্রিকেটার তুলে আনতে পারব না। প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারব না। এটা আমাদের এক নম্বর প্রাধান্য, খেলাকে সুরক্ষা দেওয়া।’
বুলবুল আরও জানান, ‘আমরা প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে যেটা নিচ্ছি, সেটা হচ্ছে এই খেলাটায় আমাদের নিয়ন্ত্রণ আছে ক্রিকেটারদের ওপর, ম্যাচ অফিসিয়ালদের ওপর, মাঠে যারা কাজ করেন, তাদের ওপরে। তাদের সবার জন্য আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। প্রতিটি বিভাগে যারা আছেন, প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদেরকে স্বাক্ষর করতে হবে এবং এরপরই কেবল আমরা তাদেরকে অংশগ্রহণ করতে দেব। আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে যে, এই খেলাটিকে সুরক্ষার জন্য আমরা সংবাদমাধ্যম কাজে লাগিয়ে প্রচারণা করতে যাচ্ছি খুব শিগগিরই। সেটা হলো যে, যেখানে আমাদের সরাসরি সুযোগ নেই, অভিভাবকদের জন্য, শিক্ষকদের জন্য, কর্মকর্তাদের জন্য… এখানে বোঝানো হবে নৈতিক মূল্যবোধগুলো, বোঝানো হবে ধর্মীয় মূল্যবোধ, বাংলাদেশের আইন বোঝানো। এসবের ওপর ভিত্তি করে দ্রুতই আমরা প্রচারণা চালাব, যেন দেশের ক্রিকেটকে আমরা নিষ্কলুষ ও সুরক্ষিত করতে পারি।’
বিপিএলের সর্বশেষ আসরের ফাইনালে চিটাগং কিংসকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ফরচুন বরিশাল। মাঠের বাইরের নানা ঘটনায় বারবার খবরের শিরোনাম হয়েছে চিটাগং কিংস, দুর্বার রাজশাহীর মত ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।
আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে মাঠে গড়াচ্ছে এনসিএলের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট।

Post a Comment