সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ৪-৩ গোলে হারের পর বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার কৌশল এবং খেলোয়াড় নির্বাচনের উপর তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠেছে। ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, কোচের ভুল কৌশল এবং খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনার কারণে দল এমন হতাশাজনক পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে।
ম্যাচের ১৩ মিনিটে হামজা চৌধুরীর অসাধারণ ফ্রি-কিক থেকে বাংলাদেশ এগিয়ে গেলেও, প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে সিঙ্গাপুর সমতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়। বিশ্লেষকরা মূলত কোচকে দায়ী করছেন, কারণ গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের যথাযথ সময় দেওয়া হয়নি। জামাল ভূঁইয়া, সুমিত সোম এবং জায়ান ভূঁইয়ার মতো খেলোয়াড়রা, যারা দলের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করতে সক্ষম ছিলেন, তারা মাত্র ৩৫ মিনিট মাঠে নামার সুযোগ পায়। বিশেষ করে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার সৃজনশীলতা কাজে লাগানো হয়নি, যা সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
সুমিত সোমের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। ২৭ ঘণ্টার ভ্রমণ এবং মাত্র একটি অনুশীলনের পরও তিনি দলের হয়ে গোল করেন এবং ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনেন। বিশ্লেষকরা প্রশ্ন করছেন, এত প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে কেন শুরু থেকে খেলানো হয়নি এবং কেন সীমিত সুযোগ দেওয়া হলো।
কোচ ক্যাবরেরার কৌশলগত চিন্তাভাবনাও সমালোচনার খাতায় রয়েছে। বাংলাদেশ যখন ১-০ এগিয়ে ছিল, তখনও রক্ষণাত্মক কৌশলকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যা দলকে আক্রমণাত্মক হতে বাধা দিয়েছে। সমতা ফেরার পরও দল আক্রমণাত্মক হতে ব্যর্থ হয়। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলিতে এমন ভুলের জন্য কোচকে অবিলম্বে অপসারণ করা হতো।ফুটবল কিট
একাংশ ফুটবল বিশ্লেষক মনে করেন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ভেতরে একটি ‘সিন্ডিকেট’ কাজ করছে, যা প্রতিভাবান দেশীয় এবং বিদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের দলে অন্তর্ভুক্তিতে বাধা দিচ্ছে। গোলরক্ষক মিঠুল মার্মার ব্যক্তিগত পরিস্থিতিও তার খেলার মানে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফুটবল বিশেষজ্ঞরা কোচ ক্যাবরেরার ওপর হারের দায়ভার চাপিয়ে দ্রুত তাকে অপসারণ এবং সিন্ডিকেট ভেঙে খেলোয়াড় নির্বাচন ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। দেশের ফুটবলের সার্বিক মানোন্নয়নের জন্য এবং তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য এটি জরুরি।

Post a Comment