শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে এশিয়া কাপে খেলতে গেছে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্যে সুপার ফোরের শুরুটা ভালো হয়েছে বাংলাদেশের। সুপার ফোরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে লিটন দাসের দল।
আগে ব্যাট করে দাসুন শানাকার ফিফটিতে ১৬৮ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে সাইফ হাসান ও তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে দারুণ জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
দুবাইতে এদিন টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন লিটন। টাইগার অধিনায়কের লক্ষ্যটা ছিল পরিস্কার, যতটা কম রানে সম্ভব লঙ্কানদের আটকে দেওয়া। কিন্তু ঘটেছে তার উল্টো। টাইগার বোলারদের ওপর রীতিমত তান্ডব চালিয়েছে লঙ্কান ব্যাটাররা।
শ্রীলঙ্কাকে এদিন দুর্দান্ত শুরু এনে দিয়েছেন পাথুম নিশাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিস। পাওয়ারপ্লেতে শরীফুল ইসলাম-নাসুম আহমেদদের ওপর রীতিমত তান্ডব চালিয়েছেন তারা। ১৫ বলে ২২ রান করা নিশাঙ্কাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর লঙ্কান ব্যাটারদের ওপর রীতিমত চেপে বসেন শেখ মাহেদী হাসান। ২৫ বলে ৩৪ রান করা কুশলের পর কামিল মিসারাকে ফেরান এই স্পিনার।
কুশল পেরেরা টি-টোয়েন্টি সুলভ ব্যাটিং করতে পারেননি। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে লিটনের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১৬ বলে করেছেন ১৬ রান।
তবে দাসুন শানাকা ও চারিথ আসালাঙ্কা লঙ্কানদের এনে দিয়েছেন বড় সংগ্রহ। ১২ বলে ২১ রান করে আসালাঙ্কা ফিরলেও শানাকা তুলে নিয়েছেন ফিফটি। এদিন ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছিলেন ডানহাতি এ ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ৩৭ বলে ৬৩ রানে অপরাজিত ছিলেন শানাকা।
এই ম্যাচ দিয়ে একাদশে ফেরা শরীফুল ইসলাম রান বিলিয়েছেন দেদারসে। ৪ ওভারে ৪৯ রান দিয়েছেন টাইগার এ পেসার। তবে ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। ২ উইকেট নিতে শেখ মাহেদী হাসান দিয়েছেন ৪ ওভারে ২৫ রান।
রান তাড়ায় শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তবে তিনে নামা লিটনকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন সাইফ হাসান। দুজনেই করেছেন দারুণ ব্যাটিং। শুরুতে দেখেশুনে খেলেছেন, এরপর সময় যত গড়িয়েছে ততই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন তারা।
এদিন বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন শট খেলেছেন সাইফ। ১৬ বলে ২৩ রান করে লিটন ফিরলেও সাইফ তুলে নিয়েছেন ফিফটি। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার বলে দুনিথ ভেল্লালাগের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে খেলেছেন ৪৫ বলে ২ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায় ৬১ রানের ইনিংস। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটাই তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস।
সাম্প্রতিক সময়ে বাজে ফর্মে থাকা তাওহীদ হৃদয় খেলেছেন দুর্দান্ত ইনিংস। ১৭ ইনিংস পর পেয়েছেন ফিফটির দেখা। এদিন শুরু থেকেই বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন হৃদয়। খেলেছেন বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন শট। তবে ম্যাচ শেষ করে আসতে পারেননি হৃদয়। ৩৭ বলে খেলেছেন ৫৮ রানের ঝকঝকে ইনিংস।

Post a Comment