এক জাকির আলির ব্যাটিংয়েই ম্যাচ হেরে সিরিজ খোয়ালো বাংলাদেশ!

 



দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ১৪ রানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ 




তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ১৪ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। দারুণ লড়াই করলেও শেষমেশ জয়ের হাসি হাসতে পারেনি টাইগাররা। এই হারের ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ হার নিশ্চিত হলো বাংলাদেশের। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। 



বল হাতে এদিনও দারুণ করেছে বাংলাদেশ। 

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ব্রেন্ডন কিংয়ের উইকেট হারিয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। দলের ১ রানের মাথাতে ৪ বলে ১ রান করে বিদায় নেন কিং।



কিংয়ের বিদায়ের পর ঝড় তোলেন আলিক আথানাজে এবং শাই হোপ। দুজনের ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে পরিস্থিতি সামলে এগিয়েছে উইন্ডিজ। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে কিংয়ের উইকেট হারিয়ে ৫০ রান তোলে ক্যারিবিয়ানরা।



পাওয়ারপ্লে শেষেও ছুটেছে আলিক এবং হোপের উইলো। দুজনের তাণ্ডবে বোর্ডে দ্রুত রান তুলতে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফিফটি ছুঁয়েছেন দুজনই। ৩৩ বলে ৫২ রান করে দলের ১০৬ রানের মাথাতে থামেন আলিক। তাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ব্রেকথ্রু এনে দেন নাসুম আহমেদ। পরের বলেই শেরফান রাদারফোর্ডকে বোল্ড করেন নাসুম।


পরের ওভারে ৩৬ বলে ৫৫ রান করা শাই হোপকে ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান। মোমেন্টাম যেন চলে আসে বাংলাদেশের দিকে। পরে একই ওভারে রভম্যান পাওয়েল এবং জেসন হোল্ডারকে ফেরান রিশাদ হোসেন। দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ, ফিরিয়েছেন বোলাররা।




শেষ ওভারে বোলিংয়ে এসে প্রথম দুই বলেই দুই উইকেট নেন মুস্তাফিজুর রহমান। সাথে ১ রান আউট মিলে উইকেট যায় ৩টি। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রানের পুঁজি দাঁড় করায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।



শুরুতে দেখেশুনে এগিয়েছে বাংলাদেশ। 

টাইগারদের হয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া ২টি করে উইকেট নেন নাসুম আহমেদ এবং রিশাদ হোসেন। ১ উইকেট তুলেছেন তাসকিন আহমেদ।


জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটিতে সাইফ হাসান এবং তানজিদ হাসান তামিম মিলে তোলেন ১৩ রান। ১১ বলে ৫ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন সাইফ। এরপর তানজিদের সাথে যোগ দেন অধিনায়ক লিটন দাস। দারুণ কিছু শটে রান বের করেছেন লিটন। তানজিদও এগিয়েছেন সাবলীল ব্যাটিংয়ে। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৩৭ রান তোলে বাংলাদেশ।



পাওয়ারপ্লে শেষেই থেমেছেন লিটন দাস। ১৭ বলে ২৩ রানের ইনিংস খেলে দলের ৪৮ রানের মাথায় থামেন লিটন। চারে নামা তাওহিদ হৃদয় একদমই সুবিধা করতে পারেননি, কেবল ধুঁকেছেন। ১৪ বলে ১২ রান করে বিদায় নেন হৃদয়।




তানজিদ এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন। পাঁচে নামা জাকের আলী অনিক শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে ছিলেন। বিপদ সামাল দিয়ে এগিয়েছেন তানজিদ। কার্যকরী ব্যাটিংয়ে ছুঁয়ে ফেলেন ফিফটিও।


তানজিদ ছিলেন দারুণ সাবলীল। 

শেষ ৪ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৪২ রান। ১৭তম ওভারে রান আসে ৯। সমীকরণ নেমে আসে ৩ ওভারে ৩৩ রানে। ১৮তম ওভারের প্রথম বলেই ফিরেছেন দলের সবচেয়ে বড় ভরসা তানজিদ তামিম। ৪৮ বলে ৬১ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলে বিদায় নেন তানজিদ। এরপর ক্রিজে আসেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী। একই ওভারের শেষ বলে আউট হয়েছেন জাকেরও। ১৮ বলে ১৭ রান করে বিদায় নেন তিনি। 


শেষ ২ ওভারে দরকার ছিল ২৬ রান। প্রথম বলেই সাজঘরে ফিরে যান শামীম। এরপর জুটি বাঁধেন রিশাদ হোসেন এবং তানজিম হাসান সাকিব। সেই ওভারে রান আসে মোটে ৫। শেষ ওভারে দরকার ২১ রান। শেষ ওভারে বোলিংয়ে আসেন আকিল হোসেইন। প্রথম বলে ২ রান নেন তানজি, ৫ বলে দরকার ১৯। পরের বলে ওয়াইড। ৫ বলে দরকার ১৮ রান।



বাংলাদেশকে চাপে রাখেন ক্যারিবিয়ান বোলাররা। 

পরের বলে ১ রান। ৪ বলে দরকার ১৭ রান। স্ট্রাইকে থাকা রিশাদ ছক্কা হাঁকাতে গেলেও হয়েছেন আউট। ৩ বলে দরকার ১৭ রান। সেখান থেকে নাসুম আহমেদ তুলেছেন মোটে ২ রান। শেষ বলে হয়েছেন আউটও। ১৪ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। 


ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন রোমারিও শেফার্ড এবং আকিল হোসেইন। ২ উইকেট তোলেন জেসন হোল্ডার। 


এই জয়ের ফলে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই জিতে নিল সিরিজ। 

Post a Comment

Previous Post Next Post