প্রশান্ত মহাসাগরে তাণ্ডব চালাচ্ছে শক্তিশালী হারিকেন অ্যারিন। আবহাওয়াবিদদের মতে, হারিকেনটির আকার আরও বড় হবে এবং এর প্রভাবে সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে বিপজ্জনক জলোচ্ছ্বাস ও উল্টো স্রোতের সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে উত্তর ক্যারোলিনার কিছু অংশসহ যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে বসবাসকারীদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হারিকেনের বর্তমান অবস্থা
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় হারিকেন সেন্টারের আবহাওয়াবিদ রুবি বার্গ সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন, পূর্ব আটলান্টিক দিয়ে অগ্রসরমান অবস্থায় অ্যারিন আকারে আরও বিস্তৃত হবে। যদিও সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে আঘাত হানার সম্ভাবনা নেই, তবু এর প্রভাবে তীব্র জলোচ্ছ্বাস ও বিপজ্জনক উল্টো স্রোত তৈরি হতে পারে।
গত শনিবার অ্যারিন ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনে পরিণত হয়েছিল, তখন এর বাতাসের বেগ ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। তবে বর্তমানে এটি ক্যাটাগরি-২ এ নেমে এলেও আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে।
সরে যাওয়ার নির্দেশ ও সতর্কতা
সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, উত্তর ক্যারোলিনার উপকূলবর্তী অঞ্চলে ইতোমধ্যে মানুষকে সরে যেতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সমুদ্র উত্তাল থাকতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
হারিকেনের ভেতরে ‘হান্টারদের’ অভিযান
এদিকে হারিকেন অ্যারিনের শক্তি ও ভয়াবহতা যাচাই করতে বিশেষ একটি দল বিমান নিয়ে প্রবেশ করেছিল হারিকেনটির মূল অংশে, যাদের বলা হয় হারিকেন হান্টার।তাদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, হারিকেনের বাইরের অংশে যখন সূর্যের আলো ঝলমল করছে, তখন ভেতরে প্রবেশ করতেই অন্ধকার, প্রবল বর্ষণ আর প্রচণ্ড কাঁপুনি শুরু হয়। এই ভেতরের ভয়ংকর দৃশ্য আবারও প্রমাণ করে, প্রকৃতির সামনে মানবসভ্যতা কতটা অসহায়।
শেষ সতর্কতা
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, হারিকেন অ্যারিনের গতিপথ ও শক্তি মুহূর্তে বদলে যেতে পারে। তাই সমুদ্রপাড়ের মানুষদের সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

Post a Comment