ঘটনার সৃষ্টি চলতি মাসের ৬ জুন। তখন আনুষ্ঠানিকভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মাঠে গড়ালেও বাংলাদেশ দলের একটি ম্যাচেও মাঠে নামা হয়নি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হওয়ার জন্য (৮ জুনের) অপেক্ষা করছিলো শান্ত বাহিনী। তার আগে ম্যাচ ভেন্যু ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে দলীয় অনুশীলন সেরেছে টাইগাররা। অনুশীলন শেষে ড্রেসিংরুমে ফিরছিলেন সাকিব আল হাসান। সেখানে উপস্থিত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে বেশ রসিকতা করে মজার ছলে সাকিব বলেন, ‘আমরা তো মায়ের দোয়া টিম হয়ে গেছি! তাই দোয়া চাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি!’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসরে সাত ম্যাচে তিন জয়ে নিজেদের সেরা বিশ্বকাপ কাটানো বাংলাদেশ দল সুপার এইটে তিন ম্যাচের সবকটিতে হেরে বাজেভাবে শেষ করেছে বিশ্বকাপ মিশন। জয়ের দেখা যা পেয়েছে সেগুলো সব গ্রুপ পর্বে। শেষ আটে প্রথম দুই ম্যাচ না জিতেও বাংলাদেশের সামনে দারুণ সুযোগ ছিলো সেমিফাইনালে যাওয়ার। তবে অধরা সে সুযোগকেও সবশেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের সাথে হেরে হেলায় ভাসালো টাইগাররা।
তাই এ বিশ্বকাপকে বাংলাদেশ দল যতই সেরা বিশ্বকাপের তকমা দিক না কেন, ক্রিকেটপ্রেমীদের উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভের অন্ত নেই এই আসরে টাইগারদের পারফম্যান্স ঘিরে। শুধু খেলোয়াড়রাই নন কোচ, ক্রিকেট বোর্ড সহ সংশ্লিষ্ট সকলকেই ব্যর্থতার দোরগোড়ায় আসামি হিসেবে দাড় করিয়েছেন অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষক।
নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে সাকিবের সেই কান্ডে হাস্যরসের জোয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। হাসির রোলও উঠেছিল প্রবলভাবে। এর আগে ২০২৩ ভারত বিশ্বকাপে নয় ম্যাচ খেলে মাত্র দুটি জয় পাওয়া বাংলাদেশ দলের ব্যর্থতার ব্যাখ্যায় স্পিনার শেখ মাহেদী বলেছিলেন, ‘দোয়া করবেন, দোয়া চাওয়া ছাড়া অপশন নেই!’ এরপর থেকেই বাংলাদেশ দলকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মায়ের দোয়া টিম’ হিসেবে ট্রল করা হচ্ছে। সেই ট্রলের রেশ এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আরও জোরাল সাকিবের বক্তব্যে।
বিশ্বকাপের অনুশীলন চলাকালীন সময়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সাকিব বলেছিলেন, 'আমরা তো মায়ের দোয়া ক্রিকেট টিম, দোয়া চাওয়া ছেড়ে দিছি।' আর তা নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিম বানানো থেকে শুরু করে নানা ধরনের ব্যঙ্গ শুরু হয়।
তারই ধারাবাহিকতায় বিশ্বকাপে বাংলাদেশের একটি ম্যাচে একজন বিদেশি নারীকে দেখা গেল বাংলাদেশ দলকে ট্রল করতে। ট্রলের উপলক্ষ হিসেবে তিনি গায়ে জড়িয়েছেন বাংলাদেশের জার্সি। যেখানে বড় করে বাংলা অক্ষরে লেখা ছিলো ‘মায়ের দোয়া ক্রিকেট টিম’।
১৯৯৯ সাল থেকে একদিনের বিশ্বকাপ এবং ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসর থেকে খেলা বাংলাদেশ দল এতদিনেও হয়ে উঠতে পারেনি ক্রিকেট পরাশক্তি হিসেবে। তাইতো এখনও বাজে পারফম্যান্সের খেসারত দিয়ে বিশ্বজুড়ে হাসির পাত্র কিংবা ট্রলের শিকার হতে হয় বাংলাদেশ দলকে।
এদিকে টপ-অর্ডারের ব্যাটিং ব্যর্থতায় শেষ হয়েছে টাইগারদের বিশ্বকাপ মিশন। লিটন দাস, সৌম্য সরকার, তানজিদ তামিম এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কেউই ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলতে পারেননি। শেষ ম্যাচে লিটনের ১১০ স্ট্রাইক রেটে আফগানদের সাথে ৪৯ বলে ৫৪ রানের অপরাজিত ইনিংসও ম্যাচ জেতায়নি বাংলাদেশকে। এটিই ছিলো টুর্নামেন্টে তার একমাত্র অর্ধশতক।
দুটি ম্যাচে সৌম্য রান করেছেন মোটে ১০। সাত ম্যাচে মাত্র ১১২ রান করেছেন শান্ত। তার সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলে ৭৬ রান করেছেন তামিম।

Post a Comment